সাভারে পরিত্যক্ত ভবনে ৫ খুনের রহস্য উন্মোচন
সাভার পৌর এলাকার পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন পুরো এলাকা আতঙ্কে থমকে গেছে, ঠিক তখনই দ্রুত অভিযানে খুনের রহস্যের জট খুলে দিল পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো এক ভয়াবহ সিরিয়াল কিলার— মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’-কে রোববার বিকেলে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
লাশের স্তূপ থেকে রহস্যের সন্ধান
বিগত ছয় মাসে সাভার কলেজের সামনে অবস্থিত এই পরিত্যক্ত ভবনটি যেন এক ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছিল। সর্বশেষ আজ রোববার দুপুরে ভবনটি থেকে এক নারী ও এক শিশুর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত বছরের আগস্ট, অক্টোবর এবং ডিসেম্বরেও পৃথকভাবে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। একের পর এক এমন নৃসংসতায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল ‘সাইকো সম্রাট’
আজকের জোড়া খুনের পরপরই সাভার মডেল থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নামে। সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী জানান, “লাশ উদ্ধারের পর আমরা পার্শ্ববর্তী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করি। সেখানে এক ভবঘুরে ব্যক্তির রহস্যময় গতিবিধি নজরে আসে। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় মশিউর রহমান সম্রাটকে আটক করা হয়।”
চমকে দেওয়া স্বীকারোক্তি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট স্বীকার করেছে যে, সে একাই এই পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট নিজেকে ভবঘুরে হিসেবে জাহির করে পরিত্যক্ত ওই ভবনেই রাত কাটাত এবং সুযোগ বুঝে মানুষদের সেখানে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করত। আলামত নষ্ট করতে সে লাশের গায়ে আগুনও ধরিয়ে দিত।
এলাকাবাসী যা বলছেন: স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্রাটকে তারা নিয়মিতই এলাকায় ঘুরতে দেখতেন। তাকে একজন ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হলেও সে যে একজন ঠাণ্ডা মাথার খুনি হতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
প্রশাসনের বক্তব্য
সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি। উদ্ধারকৃত পাঁচটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
বর্তমানে সম্রাট পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এই চক্রে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সাভার মডেল থানা পুলিশ।

No comments:
Post a Comment